৭৫,২৫০ কোটি টাকার অডিট বকেয়া দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশ :
সংশোধিত :

কেন্দ্রীয় ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে মুলতুবি থাকা অডিট অব্যাহতি দ্রুত নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারি সূত্র। এতে মোট ১ হাজার ২০৬টি অডিট আপত্তি রয়েছে, যার অর্থমূল্য ৭৫ হাজার ২৫০ কোটি টাকারও বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এসব দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা তহবিল সংক্রান্ত সমস্যা দেশের আর্থিক প্রশাসনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে, আগামী ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর আহসান হাবীব মানসুরের সভাপতিত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় কমার্শিয়াল অডিট ডিরেক্টরেটের তোলা আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তি করার বিষয় আলোচনা করা হবে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, সভায় বাংলাদেশ ব্যাংক, ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন ডিভিশন (এফআইডি) এবং কমার্শিয়াল অডিটরের অফিসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
দীর্ঘদিন ধরে মুলতুবি থাকা অডিট আপত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে যে, দেশের শীর্ষ আর্থিক কর্তৃপক্ষের গভর্নেন্স, অনুবর্তিতা ও আর্থিক তদারকিতে নানা ফাঁকফোকর রয়েছে।
এর আগে, গত বছরের ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ডের সদস্যদের কাছে মুলতুবি থাকা সমস্ত অডিট আপত্তির তালিকা সরবরাহ করা হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ড বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া, একই বছরের ১ ডিসেম্বর আপত্তি সমাধানের জন্য গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগ পুরনো অডিট বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা শক্তিশালী করার প্রতি পুনরায় গুরুত্বারোপ করছে।
অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, ১ হাজার ২০৬টি মুলতুবি অডিট আপত্তি তাদের গুরুত্ত্ব ও অস্বাভাবিকতার প্রকৃতি অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
মোট ১ হাজার ২০৬টি আপত্তির মধ্যে ৯৩৬টি বিষয় ‘গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক অস্বাভাবিকতা’ (এসএফআই) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার অর্থমূল্য ৩৬ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। অপর ২৩৪টি নন-এসএফআই (গুরুত্বহীন) আপত্তি, যার অর্থমূল্য ৩৭ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা।
এছাড়া, ১৫টি খসড়া অডিট আপত্তি এবং ২১টি রিপোর্টকৃত মামলা রয়েছে, যার মোট মূল্য যথাক্রমে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং ৩৯৯ কোটি টাকা।
অপেক্ষমাণ আপত্তির মধ্যে ৭৫টি এমন ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি আর্থিকভাবে জড়িত নয় যেমন আমদানি/রপ্তানি ও ডিফল্ট ঋণ—যার মোট অর্থমূল্য ৬৫ হাজার ২৭০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, ৪৫৩টি আপত্তি, যার অর্থমূল্য ৯ হাজার ৬৫ কোটি টাকা, ক্রয়-বিক্রয়, নিয়োগ, আইনি মামলা ও কর্মচারীর অগ্রিম অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এছাড়া, ৬৭৮টি আপত্তি, যার অর্থমূল্য ৭৬১ কোটি টাকা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বা বোর্ডের অনুমোদিত আর্থিক বিষয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত।
এফআইডির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, সভায় অডিট আপত্তির মুলতুবি ব্যাকলগের অগ্রাধিকার নির্ধারণ, দায়ী কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করা এবং নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়গুলো আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে। এ সঙ্গে পাবলিক ইনস্টিটিউশনে স্বচ্ছতা ও অডিট কমপ্লায়েন্স উন্নয়নের প্রচেষ্টা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা অডিট আপত্তি ১৯৭২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৫০ বছরের সময়কাল জুড়ে বিতর্কের বিষয় ছিল। গভর্নরের সরাসরি হস্তক্ষেপ ব্যালান্স শিট পরিষ্কার এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা সহজ করার ইচ্ছার প্রতিফলন।”
rezamumu@gmail.com


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.