নীতি সহায়তার প্রত্যাশা

কর্মকর্তাদের হিমায়িত খাদ্য অঞ্চল পরিদর্শনের আমন্ত্রণ

প্রকাশ :

সংশোধিত :

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) খুলনা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের প্রধান হিমায়িত সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলো পরিদর্শনের জন্য ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা এটিকে নীতিগত সহায়তা পাওয়ার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন, কারণ খাতটি বর্তমানে ক্রমবর্ধমান কমপ্লায়েন্স বা মাননিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জ এবং রপ্তানির ধীরগতির সঙ্গে লড়াই করছে।

গত ১৫ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বিএফএফইএ বলেছে, প্রস্তাবিত এই পরিদর্শনের মাধ্যমে শিল্পের ‘সম্পূর্ণ রপ্তানি ভ্যালু চেইন’ বা মূল্য সংযোজন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়া যাবে। এর মধ্যে চিংড়ি ও মাছ চাষ, প্রক্রিয়াকরণ এবং রপ্তানিমুখী বিধিনিষেধ পরিপালনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

খুলনা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলকে বাংলাদেশের হিমায়িত ও সামুদ্রিক খাদ্য শিল্পের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিল্প পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা যখন মান নিয়ন্ত্রণ, পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ এবং জৈব-সুরক্ষার ওপর নজরদারি কঠোর করছে—যেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছেন—তখন এই উদ্যোগটিকে অনেকটা ‘ভাবমূর্তি রক্ষার কৌশল’ হিসেবে মনে হচ্ছে।

রপ্তানি তথ্য এবং বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিতে খুব সামান্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অথচ সার্টিফিকেশন, লজিস্টিকস এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রতিযোগী দেশগুলো বাজারের বড় অংশ দখল করে নিয়েছে।

একসময়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি আয়ের খাতটি এখন সপ্তম স্থানে নেমে গেছে, যা এই খাতের সক্ষমতা বা প্রতিযোগিতার ক্রমাবনতিকে নির্দেশ করে।

বিএফএফইএ কর্মকর্তারা বলছেন, কঠোর বৈশ্বিক মানদণ্ড পূরণে এই শিল্পের প্রস্তুতি তুলে ধরার লক্ষ্যেই পরিদর্শনের সূচি সাজানো হয়েছে।

তারা আরও জানান, প্রস্তাবিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে চিংড়ি খামার ও প্রক্রিয়াকরণ কারখানা পরিদর্শন, আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা প্রোটোকল পরিপালন পরিস্থিতি যাচাই এবং খাতের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনার জন্য খুলনা ও চট্টগ্রামে অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।

সংগঠনটি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রপ্তানি আয়ের ওপর প্রভাব ফেলা ‘মূল সমস্যা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো’ তুলে ধরার এবং রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নীতিগত সহায়তা চাওয়ার পরিকল্পনা করছে।

আমন্ত্রণে বিএফএফইএ বলেছে, "আমরা বিশ্বাস করি, এই পরিদর্শনলব্ধ অভিজ্ঞতা শিল্পকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করবে এবং হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখবে।"

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সুনির্দিষ্ট সংস্কার ছাড়া কেবল সরকারি কর্মকর্তাদের পরিদর্শন ক্রেতাদের আস্থা ফেরাতে খুব একটা কাজে আসবে না।

তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জেলি পুশ করা ও অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ পাওয়ার অভিযোগে পণ্য ফেরত আসার বিষয়গুলো তুলে ধরেন, যা প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে।

এই চাপের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের বিষয়টি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইইউর ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ (ইবিএ) সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা হারালে হিমায়িত সামুদ্রিক খাদ্য রপ্তানিতে প্রায় ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হতে পারে, যা মুনাফার স্বল্প মার্জিনকে আরও সংকুচিত করে ফেলবে।

খাত সংশ্লিষ্ট একজন বলেন, "কেবল তদবিরের ওপর নির্ভর না করে স্বচ্ছ অডিট, শক্তিশালী প্রয়োগ এবং দৃশ্যমান মান উন্নয়নের মাধ্যমে কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো দূর না করলে, এ ধরনের নির্দেশিত সফর বাজারের বাস্তবতা বদলাতে পারবে না।"

রপ্তানিকারকরা যখন সতর্ক করছেন যে জরুরি নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ আরও পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, ঠিক তখনই সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করার এই উদ্যোগ নেওয়া হলো। 

rezamumu@gmail.com

সর্বশেষ খবর