
প্রকাশ :
সংশোধিত :

ভোট গণনায় 'কারচুপি' এবং দীর্ঘ চার বছরের আইনি লড়াই শেষে অবশেষে সত্য প্রতিষ্ঠিত হলো জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে। আদালতের রায়ে বিজয়ী ঘোষিত হওয়ার পর মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে শপথ গ্রহণ করেছেন তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুস সবুর পিন্টু।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা জান্নাত আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে। ওই সময় তিলকপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আব্দুস সবুর পিন্টু (তালা প্রতীক) ও মারুফ হাসান রনি (ফুটবল প্রতীক)। ভোটগ্রহণ শেষে তৎকালীন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মারুফ হাসান রনিকে মাত্র ১ ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করেন। পিন্টু আপত্তি জানালে ৫ দফা পুনর্গণনার নাটক সাজিয়ে তাকে পরাজিতই দেখানো হয়।
ফলাফল মেনে না নিয়ে ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর জয়পুরহাট জজ আদালতের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন পিন্টু। দীর্ঘ শুনানির পর জেলা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক ইফতেখার শাহরিয়ার ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ দেন।
আদালতে প্রকাশ্যে ভোট পুনর্গণনায় দেখা যায় আব্দুস সবুর পিন্টু (তালা প্রতীক) পেয়েছেন ১,১১৪ ভোট এবং মারুফ হাসান রনি (ফুটবল প্রতীক) পেয়েছেন ১,১১১ ভোট।
অর্থাৎ, আগের ঘোষিত ফলাফল ভুল ছিল এবং পিন্টু ৩ ভোটের ব্যবধানে প্রকৃত বিজয়ী ছিলেন। আদালতের এই রায়ের পর নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে এবং আজ তাকে শপথ পাঠ করানো হয়।
শপথ গ্রহণের পর ইউপি সদস্য আব্দুস সবুর পিন্টু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “২০২১ সালের নির্বাচনে আমি প্রকৃত বিজয়ী ছিলাম। অনৈতিকভাবে আমাকে পরাজিত দেখানো হয়েছিল। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” তিনি এখন এলাকার উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা জান্নাত জানান, আদালতের নির্দেশ মেনেই আব্দুস সবুর পিন্টুকে শপথ করানো হয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.